• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি

রাখাইনের হাসপাতালে ৭ সহস্রাধিক গর্ভবতী নারী চিকিৎসাসেবা পায়নি

263639_1সিসি ডেস্ক: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান চলার পাশাপাশি কি ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে রাখাইন অঞ্চলে যে গত দুই মাসে অন্তত ৭৬০০ জন গর্ভবতী নারী স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে এসেও কোনো চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফেরত গেছেন। এ খবর দিয়েছে মিয়ানমার টাইমস।

মংগদু ও বুথিডং হাসপাতালে হাজার হাজার গর্ভবতী নারী এসে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যাচ্ছেন। গত ২৯ নভেম্বর জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে হাসপাতালে আসা এসব গর্ভবতী নারীদের অধিকাংশই রক্তক্ষরণ ও সংক্রমণে ভুগছেন এবং চিকিৎসা না পাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম দেয়া ছাড়াও মৃত্যু ও দীর্ঘদিনের পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে এদের অসহায় অবস্থায় ফেরত যেতে হচ্ছে। কারণ দক্ষ কোনো চিকিৎসক হাসপাতালগুলোতে নেই। নেই জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এসব গর্ভবতী নারীদের নিরপেক্ষভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়ার আকুল আবেদন দেয়া হয়েছে ওই বিবৃতিতে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও জাতিগত পরিচয় বিবেচনা না করেই তাদের চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন মনে করছে জাতিসংঘ। অবশ্য এ আবেদনে কোনো সাড়া দিচ্ছে না মিয়ানমার সরকার। অভিযোগ রয়েছে গর্ভবতী নারী ছাড়াও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে অনেক ধর্ষিতা নারী হাসপাতালে যেয়েও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। মিয়ানমার মিডিয়া সেনাবাহিনীর হাতে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারছে না। মিয়ানমার টাইমসের এক সাংবাদিক ফিওনা ম্যাগ্রাগা রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করছে সেনাবাহিনী এমন একটি প্রতিবেদন অফিসে জমা দেয়ার পরেই তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়।

জাতিসংঘের ওই বিবৃতিতে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ থেকেও বিরত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় নারীদের সকল ধরনের সহিংসতা, সংঘাত ও দ্বন্দ্বের বাইরে রাখার আহবান জানায় জাতিসংঘের এ সংস্থাটি। সংস্থাটি বিবৃতিতে আরো জানায়, রাখাইন অঞ্চলে এমনিতে নারীদের স্বাস্থ্য রক্ষা বা চিকিৎসা সেবার অভাব তীব্র সংকটে রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সংস্থা ওই এলাকায় তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছে যার জন্যে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকারে পৌঁছে গেছে।

রাখাইন অঞ্চলের ইয়থ লিগ্যাল নেটওয়ার্কের আইনজীবী ডও লা লা ই বলেছেন, বিতর্কিত অঞ্চল ছাড়াও পুরো রাখাইন অঞ্চলে নারী, মেয়ে ও শিশুরা ভয়াবহ ধরনের অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য চিকিৎসার কবলে পড়েছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল সংস্থার এ বিবৃতি সম্পর্কে মিয়ামারের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মিয়ানমার টাইমসের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি।

একই সঙ্গে রাখাইন অঞ্চলের উত্তরাঞ্চলে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার বিশেষ দূত মিস ইয়াংহি লি রাখাইন অঞ্চল কার্যত অচল করে দেয়ার সমালোচনা করে বলেছেন, ওই অঞ্চলে মিয়ানমার সরকারের তত্ত্বাবধানে যে ৯টি দেশের রাষ্ট্রদূত পরিদর্শন করার পর সেখানকার পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেখানে মানবিক সাহায্য পুনরায় শুরু করার কথা বললেও তাতে কোনো সায় পাওয়া যায়নি। অথচ রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী, নিরাপদ গর্ভাবস্থা ও শিশু জন্মদানে ব্যবহৃত ওষুধ, এইচআইভি পরবর্তী সেবা নারীদের জন্যে পরিচ্ছন্নতা উপকরণ নিয়ে অপেক্ষা করছে ত্রাণকর্মীরা।

গত অক্টোবর থেকে রাখাইন অঞ্চলে চলছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান। এ অভিযানের লক্ষ্য সেখানকার রোহিঙ্গা মুসলমান যাদের অধিকাংশই কৃষক, মুদি দোকানি আর খেঁটে খাওয়া মানুষ। গত ৯ অক্টোবর সেখানে ৯ জন পুলিশকে হত্যা করার অভিযোগে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে, নির্বিচারে নারী ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগে অন্তত ৩০ হাজার রোহিঙ্গা ঘরছাড়া হয়েছে যাদের মধ্যে ১০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এসব হত্যা, নারী ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের কথা অস্বীকার করেছে সুচি সরকার। সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না সাংবাদিক ও ত্রাণ সংস্থাগুলোকেও।

উৎসঃ   মিয়ানমার টাইমস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ